জেপি মরগান চেজ, সিটিগ্রুপ ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতো বৈশ্বিক ব্যাংকগুলো গত বছর জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে অর্থায়ন এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি বাড়িয়েছে। অথচ আগের দুই বছর এ খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। খবর এফটি।
রেইনফরেস্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে প্রকাশিত ১৬তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে ২ হাজার ৮০০টিরও বেশি কোম্পানির ঋণ ও আন্ডাররাইটিং ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, সম্পদের দিক থেকে বিশ্বের ৬৫টি বৃহত্তম ব্যাংক ২০২৪ সালে কয়লা, জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে মোট ৮৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেশি।
২০২১ সালে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলন। যেখানে অনেক ব্যাংক নেট জিরো লক্ষ্য ঘোষণা করে। তারপর থেকে এবারই প্রথম জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে অর্থায়নের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। এ প্রবণতা এমন এক সময়ে দেখা গেল যখন ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও রিক্লেইম ফাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক লুসি পিনসন বলেন, ‘এ বছর ব্যাংকগুলো তাদের আসল চেহারা দেখাল। তাদের অনেকেই জলবায়ু প্রতিশ্রুতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে দ্বিগুণ উৎসাহে অর্থায়ন করছে। এমন এক সময়ে তারা এমনটি করল যখন বৈশ্বিক উষ্ণতার রেকর্ড ভাঙছে।’
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালে বৈশ্বিক ব্যাংকগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করেছে ৯২ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। এর পরের দুই বছরে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৭৮ হাজার ৬৭০ কোটি ও ৭০ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে।
বিনিয়োগের এ তালিকায় জেপি মরগান আগের মতোই শীর্ষস্থানে আছে। তারা ২০২৪ সালে জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে। মার্কিন ব্যাংকটি দাবি করেছে, তারা প্রতি ১ ডলার উচ্চ কার্বন জ্বালানিতে বিনিয়োগের বিপরীতে ১ ডলার ২৯ সেন্ট সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ করেছে।
ইউরোপে ছিল বার্কলেস জীবাশ্ম জ্বালানিতে সর্বোচ্চ অর্থায়নকারী। তারা ২০২৪ সালে এ খাতে অর্থায়ন ৫৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে।
বার্কলেস জানিয়েছে, তারা ভোক্তা ও ব্যবসার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি টেকসই ও রূপান্তরমুখী খাতে অর্থায়ন করেছে।
অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা ও সিটিগ্রুপ দুটোই গত বছর জীবাশ্ম জ্বালানিতে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থায়ন বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ও ৪ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে।
চীনা ব্যাংকগুলো কয়লা খাতে অর্থায়নের দিক দিয়ে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়ে গেছে। অন্যদিকে গ্যাস খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে জাপানি ব্যাংকগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে।
সামগ্রিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে অর্থায়নে মার্কিন ব্যাংকগুলোই সবচেয়ে প্রভাবশালী। তারা বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থায়নের এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ২৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার দিয়েছে। এছাড়া গ্যাস উৎপাদন খাতে অধিগ্রহণ চুক্তির অর্থায়নে প্রধান চালক ছিল দেশটির কোম্পানিগুলো।
মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নেট জিরো লক্ষ্য থেকে সরে আসার চলমান প্রবণতা তারা প্রভাবিত হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ সমর্থিত নিট জিরো ব্যাংকিং অ্যালায়েন্স থেকে বেরিয়ে এসেছে জেপি মরগান, সিটিগ্রুপ ও ব্যাংক অব আমেরিকা।